০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‎দাবি না মানলে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি: চিতলমারীর এমপিও শিক্ষকরা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১,৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসবভাতা বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

‎বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চিতলমারী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজনে উপজেলা চত্বরে একর্মবিরতি, বিক্ষোভ সমাবেশ ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১,৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসবভাতার প্রজ্ঞাপন এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

‎তারা দাবি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন।

‎চিতলমারী উপজেলা বিএনপি নেত্রী রুনা গাজী বলেন, ‎শিক্ষক সমাজ দেশের মেরুদণ্ড। তাদের ন্যায্য দাবি আজ বাস্তবায়ন না হওয়াটা লজ্জাজনক। সরকার দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের পাশে দাঁড়াবে – এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‎উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

‎জামায়াত ইসলামী চিতলমারী উপজেলা আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের এই দাবিগুলো পূরণ করা মানে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি বিনিয়োগ করা। আমরা তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।

‎ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা ডা. আবুল কালাম কাজী বলেন, শিক্ষকদের প্রতি অবিচার সমাজে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। সরকারকে এখনই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

‎‎চিতলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি একরামুল হক মুন্সী  তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষকদের এই ন্যায্য আন্দোলন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জনগণের সামনে তুলে ধরব। তাদের পাশে আমরা  আছি।

‎শেরে বাংলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের এই আন্দোলন কারও বিরুদ্ধে নয়; এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

‎কালিদাস বড়াল স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার রায় বলেন, ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও ১,৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা শিক্ষক সমাজের মৌলিক প্রয়োজন। সরকার আমাদের দাবি দ্রুত পূরণ করুক।

‎চিতলমারী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইদ্রিসুর রহমান বলেন, আমরা শিক্ষা সেবক, কিন্তু আজ আমাদের জীবনযাপনই কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুক।

‎চিতলমারী উপজেলা জেনারেল শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সোয়ায়েব হোসেন গাজী বলেন,

‎‎আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

‎এসময়   উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সমাজসেবক ও সাধারণ মানুষ তাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ অবস্থানে অনড়, ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছে শক্ত অবস্থানে

‎দাবি না মানলে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি: চিতলমারীর এমপিও শিক্ষকরা

Update Time : ০৩:৪০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

বাগেরহাটের চিতলমারীতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১,৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসবভাতা বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

‎বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চিতলমারী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজনে উপজেলা চত্বরে একর্মবিরতি, বিক্ষোভ সমাবেশ ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১,৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসবভাতার প্রজ্ঞাপন এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

‎তারা দাবি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন।

‎চিতলমারী উপজেলা বিএনপি নেত্রী রুনা গাজী বলেন, ‎শিক্ষক সমাজ দেশের মেরুদণ্ড। তাদের ন্যায্য দাবি আজ বাস্তবায়ন না হওয়াটা লজ্জাজনক। সরকার দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের পাশে দাঁড়াবে – এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‎উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

‎জামায়াত ইসলামী চিতলমারী উপজেলা আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের এই দাবিগুলো পূরণ করা মানে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি বিনিয়োগ করা। আমরা তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।

‎ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা ডা. আবুল কালাম কাজী বলেন, শিক্ষকদের প্রতি অবিচার সমাজে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। সরকারকে এখনই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

‎‎চিতলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি একরামুল হক মুন্সী  তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষকদের এই ন্যায্য আন্দোলন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জনগণের সামনে তুলে ধরব। তাদের পাশে আমরা  আছি।

‎শেরে বাংলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের এই আন্দোলন কারও বিরুদ্ধে নয়; এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

‎কালিদাস বড়াল স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার রায় বলেন, ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও ১,৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা শিক্ষক সমাজের মৌলিক প্রয়োজন। সরকার আমাদের দাবি দ্রুত পূরণ করুক।

‎চিতলমারী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইদ্রিসুর রহমান বলেন, আমরা শিক্ষা সেবক, কিন্তু আজ আমাদের জীবনযাপনই কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুক।

‎চিতলমারী উপজেলা জেনারেল শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সোয়ায়েব হোসেন গাজী বলেন,

‎‎আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

‎এসময়   উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সমাজসেবক ও সাধারণ মানুষ তাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।