০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে জাতীয় জোটের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান ‎

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে জাতীয় জোটের উদ্যোগে শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে জাতীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

‎গণঅধিকার পার্টি (পিআরপি) ও জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় জোটের শরিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ – জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম আকাশ, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি ও মহাসচিব জাতীয় জোট; জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল বাদল, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পিপলস্ পার্টি ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; এডভোকেট আলমগীর, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মানসুর আহমেদ, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; মোঃ ইউসুফ পারভেজ, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ন্যাশনাল রিপাবলিকান পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; মোঃ আমজাদ হোসেন সজল, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; আব্দুর রাজ্জাক, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবিক পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন – মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাজা মহিবুল্লাহ শান্তিপুরী, এডভোকেট আব্দুল হক, মোঃ শাহ আলম তাহের, মুফতি মেসবাহ উদ্দিন, মোঃ মোবারক হোসেন বিজ্ঞানী, ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আনিসুর রহমান দেশ, এইচ এম নুর মোহাম্মদ মনিরসহ জাতীয় জোটের শরিক দলের বহু কেন্দ্রীয় নেতা।

‎স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মরিচ, গুঁড়া দুধসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি চরম সংকটে পড়েছে।

‎উল্লেখ করা হয়, মোটা চাল ৫৫–৬০ টাকা, চিকন চাল ৮০–৯৫ টাকা, আটা ৪৫–৫০ টাকা, তেল ১৭০–১৮০ টাকা, ডাল ১১০–১৩০ টাকা, গুঁড়া দুধ ৫৯০–৬৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকার নিচে নামছে না।

‎বক্তারা বলেন, এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটের ফল। গত ১৬ বছরে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও পানির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা নাগরিকদের ন্যূনতম জীবনধারাকেও হুমকিতে ফেলেছে।

‎জাতীয় জোট নেতারা বলেন- কর্মসংস্থান সংকট, বাড়ি-ভাড়া বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি- সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। অনেকে টিসিবির লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে স্বল্প মূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ সীমিত থাকায় অধিকাংশই খালি হাতে ফিরতে হয়।

‎তারা দাবি জানান- দেশের নিম্ন, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত টিসিবি কার্ড চালু করতে হবে এবং টিসিবি পণ্যের সরবরাহ বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।

‎মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতি ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলিতে দুর্নীতি পূর্বের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে- যা জনগণ মেনে নিতে পারছে না। তারা দাবি করেন- কল রেট ও ইন্টারনেট এমবি রেট কমাতে হবে, মেয়াদভিত্তিক প্যাকেজ নামের প্রতারণা বন্ধ করতে হবে এবং এই খাতে দুর্নীতি রোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

‎গণঅধিকার পার্টি (পিআরপি) ও জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলে এভাবে দ্রব্যমূল্য ও জনদুর্ভোগ বাড়ত না। আজ ক্ষুধা, অনাহার, বেকারত্ব ও দুর্নীতির কারণে জাতি বিপর্যয়ের মুখে। আমরা প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে আহবান জানাই-অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করুন।

‎জাতীয় জোটের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি এবং সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি প্রদান দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যাগুলোর প্রতি জাতীয় জোটের অবস্থান প্রশংসনীয় ও দায়িত্বশীল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ অবস্থানে অনড়, ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছে শক্ত অবস্থানে

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে জাতীয় জোটের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান ‎

Update Time : ০৩:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে জাতীয় জোটের উদ্যোগে শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে জাতীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

‎গণঅধিকার পার্টি (পিআরপি) ও জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় জোটের শরিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ – জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম আকাশ, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি ও মহাসচিব জাতীয় জোট; জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল বাদল, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পিপলস্ পার্টি ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; এডভোকেট আলমগীর, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মানসুর আহমেদ, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; মোঃ ইউসুফ পারভেজ, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ন্যাশনাল রিপাবলিকান পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; মোঃ আমজাদ হোসেন সজল, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; আব্দুর রাজ্জাক, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবিক পার্টি ও কো-চেয়ারম্যান জাতীয় জোট; এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন – মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাজা মহিবুল্লাহ শান্তিপুরী, এডভোকেট আব্দুল হক, মোঃ শাহ আলম তাহের, মুফতি মেসবাহ উদ্দিন, মোঃ মোবারক হোসেন বিজ্ঞানী, ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আনিসুর রহমান দেশ, এইচ এম নুর মোহাম্মদ মনিরসহ জাতীয় জোটের শরিক দলের বহু কেন্দ্রীয় নেতা।

‎স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মরিচ, গুঁড়া দুধসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি চরম সংকটে পড়েছে।

‎উল্লেখ করা হয়, মোটা চাল ৫৫–৬০ টাকা, চিকন চাল ৮০–৯৫ টাকা, আটা ৪৫–৫০ টাকা, তেল ১৭০–১৮০ টাকা, ডাল ১১০–১৩০ টাকা, গুঁড়া দুধ ৫৯০–৬৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকার নিচে নামছে না।

‎বক্তারা বলেন, এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটের ফল। গত ১৬ বছরে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও পানির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা নাগরিকদের ন্যূনতম জীবনধারাকেও হুমকিতে ফেলেছে।

‎জাতীয় জোট নেতারা বলেন- কর্মসংস্থান সংকট, বাড়ি-ভাড়া বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি- সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। অনেকে টিসিবির লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে স্বল্প মূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ সীমিত থাকায় অধিকাংশই খালি হাতে ফিরতে হয়।

‎তারা দাবি জানান- দেশের নিম্ন, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত টিসিবি কার্ড চালু করতে হবে এবং টিসিবি পণ্যের সরবরাহ বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।

‎মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতি ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলিতে দুর্নীতি পূর্বের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে- যা জনগণ মেনে নিতে পারছে না। তারা দাবি করেন- কল রেট ও ইন্টারনেট এমবি রেট কমাতে হবে, মেয়াদভিত্তিক প্যাকেজ নামের প্রতারণা বন্ধ করতে হবে এবং এই খাতে দুর্নীতি রোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

‎গণঅধিকার পার্টি (পিআরপি) ও জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলে এভাবে দ্রব্যমূল্য ও জনদুর্ভোগ বাড়ত না। আজ ক্ষুধা, অনাহার, বেকারত্ব ও দুর্নীতির কারণে জাতি বিপর্যয়ের মুখে। আমরা প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে আহবান জানাই-অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করুন।

‎জাতীয় জোটের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি এবং সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি প্রদান দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যাগুলোর প্রতি জাতীয় জোটের অবস্থান প্রশংসনীয় ও দায়িত্বশীল।