০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‎নীরবতার ভাষায় ‘ভাসানে উজান’- আজ শিল্পকলায় চতুর্থ মঞ্চায়ন ‎

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আজ সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হচ্ছে দস্তয়ভস্কির বিখ্যাত ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে নির্মিত একক নাটক ‘ভাসানে উজান’। নাট্যদল বিবেকানন্দ থিয়েটারের ২৫তম প্রযোজনা হিসেবে এটি নাটকটির চতুর্থ প্রদর্শনী।

মানুষের অন্তর্গত নীরবতা, অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও একাকিত্বের সূক্ষ্ম দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘ভাসানে উজান’ মূলত একটি অন্তর্মুখী মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা। একক চরিত্রের মধ্য দিয়েই উন্মোচিত হয় মানুষের অন্তর্লোকের জটিলতা, যেখানে সংলাপের চেয়ে অনুভব ও নীরবতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকাশভঙ্গি।

‎দস্তয়ভস্কির গভীর মনস্তাত্ত্বিক বয়ানকে বাংলা নাট্যমঞ্চের উপযোগী করে নাট্যরূপ দিয়েছেন অপূর্ব কুমার কুণ্ডু। নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। একক অভিনয়ে আছেন সময়ের আলোচিত অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান, যিনি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রাচীনতম নাট্যদল থিয়েটার (বেইলী রোড)-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে নিয়মিত নাট্যচর্চা করে আসছেন।

নাট্যপ্রেমীদের মতে, ‘ভাসানে উজান’-এ এরশাদ হাসানের সংযত অভিনয়, গভীর অভিব্যক্তি ও নিয়ন্ত্রিত শরীরী ভাষা নাটকটিকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। একক অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি যেন বহন করছেন নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের একটি বিশেষ তাৎপর্য, যা দর্শকদের ভেতরে তৈরি করে দীর্ঘস্থায়ী আত্মসংলাপ।

‎নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় বলেন, দস্তয়ভস্কির গল্পের মনস্তত্ত্ব, অপূর্ব কুমার কুণ্ডুর সংবেদনশীল নাট্যরূপ এবং এরশাদ হাসানের শক্তিশালী একক উপস্থিতি-এই তিনের সমন্বয় আমাদের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং, তবে আমরা তা সফলভাবেই অতিক্রম করতে পেরেছি।

নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু বলেন, “মানুষ শেষ পর্যন্ত সত্যিকারে ভালো হয়ে থাকতে পারে কি না- এই প্রশ্নের অনুসন্ধানই ‘ভাসানে উজান’-এর কেন্দ্রবিন্দু। এরশাদ হাসানের অভিনয়ে সেই প্রশ্নটি আরও গভীরভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছেছে।”

নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন পলাশ হেনড্রী সেন। সংগীত পরিচালনা করেছেন হামিদুর রহমান পাপ্পু। পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি, প্রপস পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ণো এবং কোরিওগ্রাফিতে রয়েছেন রবিন বসাক।

‎প্রযোজনাটির চতুর্থ প্রদর্শনী নিয়েও দর্শকদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। অনেকের বিশ্বাস, একক নাটকের এই নিরীক্ষাধর্মী প্রয়াস বাংলা থিয়েটারে নতুন আলোচনার জন্ম দেবে। উল্লেখ্য, ‘ভাসানে উজান’ ইতোমধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক নাট্যোৎসবের আমন্ত্রণ পেয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ অবস্থানে অনড়, ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছে শক্ত অবস্থানে

‎নীরবতার ভাষায় ‘ভাসানে উজান’- আজ শিল্পকলায় চতুর্থ মঞ্চায়ন ‎

Update Time : ০৪:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আজ সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হচ্ছে দস্তয়ভস্কির বিখ্যাত ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে নির্মিত একক নাটক ‘ভাসানে উজান’। নাট্যদল বিবেকানন্দ থিয়েটারের ২৫তম প্রযোজনা হিসেবে এটি নাটকটির চতুর্থ প্রদর্শনী।

মানুষের অন্তর্গত নীরবতা, অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও একাকিত্বের সূক্ষ্ম দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘ভাসানে উজান’ মূলত একটি অন্তর্মুখী মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা। একক চরিত্রের মধ্য দিয়েই উন্মোচিত হয় মানুষের অন্তর্লোকের জটিলতা, যেখানে সংলাপের চেয়ে অনুভব ও নীরবতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকাশভঙ্গি।

‎দস্তয়ভস্কির গভীর মনস্তাত্ত্বিক বয়ানকে বাংলা নাট্যমঞ্চের উপযোগী করে নাট্যরূপ দিয়েছেন অপূর্ব কুমার কুণ্ডু। নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। একক অভিনয়ে আছেন সময়ের আলোচিত অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান, যিনি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রাচীনতম নাট্যদল থিয়েটার (বেইলী রোড)-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে নিয়মিত নাট্যচর্চা করে আসছেন।

নাট্যপ্রেমীদের মতে, ‘ভাসানে উজান’-এ এরশাদ হাসানের সংযত অভিনয়, গভীর অভিব্যক্তি ও নিয়ন্ত্রিত শরীরী ভাষা নাটকটিকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। একক অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি যেন বহন করছেন নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের একটি বিশেষ তাৎপর্য, যা দর্শকদের ভেতরে তৈরি করে দীর্ঘস্থায়ী আত্মসংলাপ।

‎নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় বলেন, দস্তয়ভস্কির গল্পের মনস্তত্ত্ব, অপূর্ব কুমার কুণ্ডুর সংবেদনশীল নাট্যরূপ এবং এরশাদ হাসানের শক্তিশালী একক উপস্থিতি-এই তিনের সমন্বয় আমাদের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং, তবে আমরা তা সফলভাবেই অতিক্রম করতে পেরেছি।

নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু বলেন, “মানুষ শেষ পর্যন্ত সত্যিকারে ভালো হয়ে থাকতে পারে কি না- এই প্রশ্নের অনুসন্ধানই ‘ভাসানে উজান’-এর কেন্দ্রবিন্দু। এরশাদ হাসানের অভিনয়ে সেই প্রশ্নটি আরও গভীরভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছেছে।”

নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন পলাশ হেনড্রী সেন। সংগীত পরিচালনা করেছেন হামিদুর রহমান পাপ্পু। পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি, প্রপস পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ণো এবং কোরিওগ্রাফিতে রয়েছেন রবিন বসাক।

‎প্রযোজনাটির চতুর্থ প্রদর্শনী নিয়েও দর্শকদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। অনেকের বিশ্বাস, একক নাটকের এই নিরীক্ষাধর্মী প্রয়াস বাংলা থিয়েটারে নতুন আলোচনার জন্ম দেবে। উল্লেখ্য, ‘ভাসানে উজান’ ইতোমধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক নাট্যোৎসবের আমন্ত্রণ পেয়েছে।