
কুমিল্লার মুরাদনগরের হাজী আতিকুর রহমানের ছেলে মামুন হাসান প্রমাণ করলেন—পরীক্ষায় ফেল করা মানেই জীবনের শেষ নয়। একাধিকবার একাডেমিক ব্যর্থতা ও আইএলটিএস পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পরও মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে অবশেষে তিনি একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এতে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার, স্বজন ও এলাকার মানুষ।
জানা গেছে, মামুন হাসান এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন এবং পরবর্তী সময়ে একাধিকবার আইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েও সফল হতে পারেননি। তবে বারবার ব্যর্থ হলেও তিনি হতাশায় ডুবে যাননি কিংবা আত্মহননের মতো কোনো পথ বেছে নেননি। বরং অধ্যবসায়, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে নতুনভাবে প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি UCLan Cyprus-এ ভর্তির সুযোগ পান, যা যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য University of Central Lancashire (UCLan)–এর একটি শাখা।
মামুনের এই সাফল্য নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে, যারা পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। দেশে প্রতি বছর পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর হতাশাজনিত আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তে দেখা যায়, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষাবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষায় ফেল করা কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সক্ষমতার চূড়ান্ত মাপকাঠি হতে পারে না।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খারাপ ফলাফল বা জীবনের বিপর্যয়ে সবাই আত্মহত্যার পথে যায় না। যারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, তারা সাধারণত ‘রিস্ক গ্রুপ’-এর অন্তর্ভুক্ত- অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ, মানসিকভাবে অস্থির এবং সহায়তার অভাবে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাবা-মা নয়, শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। ফলাফল খারাপ হলেও অনুপ্রেরণামূলক কথা বলা, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং আবেগগত সংকটে পাশে দাঁড়ানো গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
মামুন হাসানের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়- ব্যর্থতা কোনো চূড়ান্ত পরাজয় নয়, বরং শেখার একটি ধাপ। সঠিক দিকনির্দেশনা, ধৈর্য ও প্রচেষ্টা থাকলে জীবন নতুন পথে মোড় নিতে পারে। তাই ফেল করাকে হতাশার কারণ না বানিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করাই হোক আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 















