০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শূন্যতার সিংহাসনে কে বসবে? জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া একটি নাম নয়—তিনি একটি কালপর্ব, একটি প্রতিস্পর্ধী অধ্যায়, এক গভীর প্রতীকী উপস্থিতি। তাঁর অনুপস্থিতি কেবল একটি ব্যক্তিগত অবসর নয়; এটি একটি মতাদর্শিক নীরবতা, একটি সংগঠনিক শূন্যতা, যা আজ সমগ্র রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে অস্থির করে তুলেছে। প্রশ্নটি তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়—খালেদা জিয়ার শূন্যতা কে পূরণ করবে, কিংবা আদৌ কি তা পূরণযোগ্য?

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা ছিল বহুমাত্রিক। তিনি ছিলেন একাধারে জনসমর্থনের প্রতীক, দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং বিরোধী রাজনীতির দৃঢ় স্তম্ভ। তাঁর নেতৃত্বে রাজনীতি ছিল আবেগমথিত, প্রতিরোধমুখর এবং আপসহীন। সেই শক্তিকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সহজ নয়, কারণ নেতৃত্ব কেবল পদে নয়—প্রভাব, বিশ্বাস ও সংগ্রামের ইতিহাসে নির্মিত হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নাম উচ্চারিত হলেও, তাদের অধিকাংশই খালেদা জিয়ার মতো সাংগঠনিক প্রজ্ঞা ও জননন্দিত গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে এখনও ব্যর্থ। কেউ কেউ প্রশাসনিক দক্ষতায় পারদর্শী, কেউ বক্তব্যে তীক্ষ্ণ, আবার কেউ কৌশলে চতুর—কিন্তু খালেদা জিয়ার মতো রাজনৈতিক আভিজাত্য ও প্রতিস্পর্ধী দৃঢ়তা একত্রে বহন করার ভার খুব কমের পক্ষেই সম্ভব।

আরও গভীরে তাকালে দেখা যায়, শূন্যতা পূরণের প্রশ্নটি আসলে ব্যক্তি-নির্ভর রাজনীতির সীমাবদ্ধতাকেই উন্মোচিত করে। একটি দলের ভবিষ্যৎ যদি একক ব্যক্তির ছায়ায় আবদ্ধ থাকে, তবে তাঁর অবর্তমানে অনিবার্যভাবে সৃষ্টি হয় দিশাহীনতা। খালেদা জিয়ার শূন্যতা হয়তো কোনো একক ব্যক্তির মাধ্যমে পূরণ হবে না; বরং তা পূরণ হতে পারে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সম্মিলিত নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে।

অতএব, প্রশ্নটি “কে” নয়- প্রশ্নটি “কিভাবে”। খালেদা জিয়ার শূন্যতা পূরণ হবে তখনই, যখন রাজনীতি ব্যক্তি-নির্ভরতা ছাড়িয়ে আদর্শ, প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে নবতর রূপ লাভ করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ অবস্থানে অনড়, ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছে শক্ত অবস্থানে

শূন্যতার সিংহাসনে কে বসবে? জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।

Update Time : ১২:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া একটি নাম নয়—তিনি একটি কালপর্ব, একটি প্রতিস্পর্ধী অধ্যায়, এক গভীর প্রতীকী উপস্থিতি। তাঁর অনুপস্থিতি কেবল একটি ব্যক্তিগত অবসর নয়; এটি একটি মতাদর্শিক নীরবতা, একটি সংগঠনিক শূন্যতা, যা আজ সমগ্র রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে অস্থির করে তুলেছে। প্রশ্নটি তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়—খালেদা জিয়ার শূন্যতা কে পূরণ করবে, কিংবা আদৌ কি তা পূরণযোগ্য?

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা ছিল বহুমাত্রিক। তিনি ছিলেন একাধারে জনসমর্থনের প্রতীক, দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং বিরোধী রাজনীতির দৃঢ় স্তম্ভ। তাঁর নেতৃত্বে রাজনীতি ছিল আবেগমথিত, প্রতিরোধমুখর এবং আপসহীন। সেই শক্তিকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সহজ নয়, কারণ নেতৃত্ব কেবল পদে নয়—প্রভাব, বিশ্বাস ও সংগ্রামের ইতিহাসে নির্মিত হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নাম উচ্চারিত হলেও, তাদের অধিকাংশই খালেদা জিয়ার মতো সাংগঠনিক প্রজ্ঞা ও জননন্দিত গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে এখনও ব্যর্থ। কেউ কেউ প্রশাসনিক দক্ষতায় পারদর্শী, কেউ বক্তব্যে তীক্ষ্ণ, আবার কেউ কৌশলে চতুর—কিন্তু খালেদা জিয়ার মতো রাজনৈতিক আভিজাত্য ও প্রতিস্পর্ধী দৃঢ়তা একত্রে বহন করার ভার খুব কমের পক্ষেই সম্ভব।

আরও গভীরে তাকালে দেখা যায়, শূন্যতা পূরণের প্রশ্নটি আসলে ব্যক্তি-নির্ভর রাজনীতির সীমাবদ্ধতাকেই উন্মোচিত করে। একটি দলের ভবিষ্যৎ যদি একক ব্যক্তির ছায়ায় আবদ্ধ থাকে, তবে তাঁর অবর্তমানে অনিবার্যভাবে সৃষ্টি হয় দিশাহীনতা। খালেদা জিয়ার শূন্যতা হয়তো কোনো একক ব্যক্তির মাধ্যমে পূরণ হবে না; বরং তা পূরণ হতে পারে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সম্মিলিত নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে।

অতএব, প্রশ্নটি “কে” নয়- প্রশ্নটি “কিভাবে”। খালেদা জিয়ার শূন্যতা পূরণ হবে তখনই, যখন রাজনীতি ব্যক্তি-নির্ভরতা ছাড়িয়ে আদর্শ, প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে নবতর রূপ লাভ করবে।