
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার ঠিক শেষ মুহূর্তে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি–সোনাতলা) আসনে ঘটে গেছে নাটকীয় পরিবর্তন। প্রাথমিকভাবে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল কাজী রফিককে। তবে শেষ মুহূর্তে দলীয় হাইকমান্ড সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজী রফিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নিয়ে ছিল ব্যাপক অসন্তোষ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর রাখতেন না এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন না। এসব বিষয় দলীয় ফোরামে বারবার উঠে আসায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিএনপির হাইকমান্ড।
এদিকে পূর্বে মনোনয়ন পাওয়া কাজী রফিকুল ইসলাম একাধিক ব্যাংকের ঋণ খেলাপি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করেছে দলটি।
জানা যায়, কাজী রফিকুল ইসলাম দুটি বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি প্রায় ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে তিনি খেলাপি ২৮০ কোটি টাকা। এছাড়া এক্সিম ব্যাংকে তার ও কে গ্রুপের নামে ঋণ খেলাপি ৪৮৪ কোটি টাকা।
এছাড়া ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কাজী রফিকুল ইসলাম নামে আরেকটি জামিনদার মামলা রয়েছে। সেই মামলায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের বিপরীতে মামলাটি করা হয়েছে।
এই মামলায় নুরুল আফসারসহ আরও আটজনকে একই মামলায় আসামি করা হয়েছে। অর্থঋণ আদালতের ৬৬৪/২৫ মামলার এজাহার সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় দল। নতুন করে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয় এ. কে. এম আহসানুল তৈয়ব জাকিরকে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।
তৈয়ব জাকির বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক দুইবারের সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি।
এদিকে প্রার্থী পরিবর্তনের খবরে বগুড়া-১ আসনের বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। স্থানীয় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া মিলবে।
শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় পরিবর্তন বগুড়া-১ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন সব দৃষ্টি আগামীকালের নির্বাচনের দিকে, যেখানে নতুন প্রার্থী হিসেবে এ. কে. এম আহসানুল তৈয়ব জাকির কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 









