০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হত্যা মামলার আসামি ‘ডিসকো শওকত’ কি প্রভাবশালী তদবিরে ধরাছোঁয়ার বাইরে?

গভীর রাতে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে খবর-অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী ওরফে ‘ডিসকো শওকত’। মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়।

‎জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে আটকের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি:

রাত পেরিয়ে গেলেও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। উল্টো পরদিন দুপুরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য-শওকত আলী চৌধুরী নাকি আদৌ আটক হননি, অথবা রহস্যজনকভাবে ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে তিনি আর সেখানে নেই। রাতের অভিযানের খবর আর পরদিন দুপুরে তার ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন- এই মধ্যবর্তী সময়ে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শওকত আলী চৌধুরী ঢাকার বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার স্পষ্ট তালিকাভুক্ত আসামি। গত ৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়ের করা বাড্ডা থানার মামলা নং-০৫ (ধারা ৩০২/৩৪, দণ্ডবিধি) এর এজাহারে তিনি ৫৪ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তার বয়স ৫৬ বছর এবং পরিচয়ে তাকে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাড্ডা লিংক রোডে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান নিহত হন। ওই ঘটনায় হুকুমদাতা ও সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় অন্যদের সঙ্গে শওকত আলী চৌধুরীর নামও উল্লেখ রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৩০২ ধারার মতো গুরুতর হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখন পর্যন্ত আদালত থেকে জামিন নেননি। অথচ প্রকাশ্যে চলাফেরা, ব্যবসা পরিচালনা এবং সামাজিক উপস্থিতি বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন রয়েছে, বিপুল অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন এবং চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে- একজন পলাতক হত্যা মামলার আসামি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়াই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন? ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় তদন্তকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

‎এই ঘটনায় প্রভাবশালী মহলের তদবিরে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, নাকি পুরো বিষয়টি ছিল বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফল-তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত রহস্য কাটছে না। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে, তারা শুধু গুঞ্জন নয়, আইনের দৃশ্যমান প্রয়োগ দেখতে চায়।

আইনের চোখে সবাই সমান- এই নীতির বাস্তব প্রতিফলন আদৌ ঘটছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ অবস্থানে অনড়, ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছে শক্ত অবস্থানে

হত্যা মামলার আসামি ‘ডিসকো শওকত’ কি প্রভাবশালী তদবিরে ধরাছোঁয়ার বাইরে?

Update Time : ১১:৩৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

গভীর রাতে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে খবর-অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী ওরফে ‘ডিসকো শওকত’। মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়।

‎জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে আটকের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি:

রাত পেরিয়ে গেলেও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। উল্টো পরদিন দুপুরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য-শওকত আলী চৌধুরী নাকি আদৌ আটক হননি, অথবা রহস্যজনকভাবে ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে তিনি আর সেখানে নেই। রাতের অভিযানের খবর আর পরদিন দুপুরে তার ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন- এই মধ্যবর্তী সময়ে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শওকত আলী চৌধুরী ঢাকার বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার স্পষ্ট তালিকাভুক্ত আসামি। গত ৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়ের করা বাড্ডা থানার মামলা নং-০৫ (ধারা ৩০২/৩৪, দণ্ডবিধি) এর এজাহারে তিনি ৫৪ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তার বয়স ৫৬ বছর এবং পরিচয়ে তাকে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাড্ডা লিংক রোডে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান নিহত হন। ওই ঘটনায় হুকুমদাতা ও সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় অন্যদের সঙ্গে শওকত আলী চৌধুরীর নামও উল্লেখ রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৩০২ ধারার মতো গুরুতর হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখন পর্যন্ত আদালত থেকে জামিন নেননি। অথচ প্রকাশ্যে চলাফেরা, ব্যবসা পরিচালনা এবং সামাজিক উপস্থিতি বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন রয়েছে, বিপুল অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন এবং চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে- একজন পলাতক হত্যা মামলার আসামি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়াই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন? ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় তদন্তকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

‎এই ঘটনায় প্রভাবশালী মহলের তদবিরে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, নাকি পুরো বিষয়টি ছিল বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফল-তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত রহস্য কাটছে না। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে, তারা শুধু গুঞ্জন নয়, আইনের দৃশ্যমান প্রয়োগ দেখতে চায়।

আইনের চোখে সবাই সমান- এই নীতির বাস্তব প্রতিফলন আদৌ ঘটছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।