০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খিলগাঁওয়ে চাঁদা না পেয়ে সেলুনে সন্ত্রাসী হামলা, থানায় মামলা দায়ের

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে চাঁদা না দেওয়ায় এক সেলুন ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর ) দুপুর সাড়ে দুইটার দিকে খিলগাঁও থানাধীন ৩নং ওয়ার্ডের এর মেরাদিয়া মধ্যপাড়ায় ‘সাইফুল টু’ নামের একটি সেলুনে এ ঘটনা ঘটে ।

‎আহত নরসুন্দর মো. সিরাজ মিয়া (২৬) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় আহতের বড় ভাই মো. রফিক মিয়া (৪০) শুক্রবার রাতে খিলগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় মো. আলমগীর (২৮), পিতা–মৃত বারেক মিয়া, এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৪–৫ জন সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইয়ের দোকান থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তারা একাধিকবার ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেয়।

 বৃহস্পতিবার দুপুরে আলমগীরসহ তার সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে সেলুনে ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সিরাজ মিয়া টাকা দিতে অস্বীকার করলে, আলমগীর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার ওপর এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারেন। একপর্যায়ে পাশের দোকান থেকে ধারালো খুর এনে সিরাজের গলা ও বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার পেটের খাদ্যনালী ও রগনালীতে গুরুতর জখম হয়।

‎চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত সিরাজকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান, যেখানে বর্তমানে তিনি ভর্তি রয়েছেন।

‎রফিক মিয়া জানান, আমার ভাই সাধারণ একজন সেলুন ব্যবসায়ী। চাঁদা দিতে না পারায় ওরা তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। এখনো ভয় পাচ্ছি, কারণ তারা এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

‎অভিযোগের বিষয়ে আলমগীরের সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ অবস্থানে অনড়, ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছে শক্ত অবস্থানে

খিলগাঁওয়ে চাঁদা না পেয়ে সেলুনে সন্ত্রাসী হামলা, থানায় মামলা দায়ের

Update Time : ১২:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে চাঁদা না দেওয়ায় এক সেলুন ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর ) দুপুর সাড়ে দুইটার দিকে খিলগাঁও থানাধীন ৩নং ওয়ার্ডের এর মেরাদিয়া মধ্যপাড়ায় ‘সাইফুল টু’ নামের একটি সেলুনে এ ঘটনা ঘটে ।

‎আহত নরসুন্দর মো. সিরাজ মিয়া (২৬) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় আহতের বড় ভাই মো. রফিক মিয়া (৪০) শুক্রবার রাতে খিলগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় মো. আলমগীর (২৮), পিতা–মৃত বারেক মিয়া, এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৪–৫ জন সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইয়ের দোকান থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তারা একাধিকবার ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেয়।

 বৃহস্পতিবার দুপুরে আলমগীরসহ তার সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে সেলুনে ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সিরাজ মিয়া টাকা দিতে অস্বীকার করলে, আলমগীর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার ওপর এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারেন। একপর্যায়ে পাশের দোকান থেকে ধারালো খুর এনে সিরাজের গলা ও বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার পেটের খাদ্যনালী ও রগনালীতে গুরুতর জখম হয়।

‎চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত সিরাজকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান, যেখানে বর্তমানে তিনি ভর্তি রয়েছেন।

‎রফিক মিয়া জানান, আমার ভাই সাধারণ একজন সেলুন ব্যবসায়ী। চাঁদা দিতে না পারায় ওরা তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। এখনো ভয় পাচ্ছি, কারণ তারা এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

‎অভিযোগের বিষয়ে আলমগীরের সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।